Home আন্তর্জাতিকট্রাম্প যাদের উপর বিরক্ত

ট্রাম্প যাদের উপর বিরক্ত

by Akash
০ comments

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্সি শুরু হওয়ার পর থেকেই বিশ্বরাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতা গ্রহণের পর, ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলায় একটি দ্রুতগতির সামরিক অভিযান চালিয়ে নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার করে। এই অভিযানকে ট্রাম্প ‘তেল এবং নিরাপত্তার জন্য একটি জয়’ বলে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এরপর প্রশ্ন উঠেছে ভেনেজুয়েলার পর ট্রাম্পের লক্ষ্য কোন দেশগুলো? এই দেশগুলো কেন সমৃদ্ধ এবং ট্রাম্প কেন সেগুলোতে হস্তক্ষেপ বা দখলের চিন্তা করছেন? আজকের আয়োজনে আমরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই বিষয়গুলো আলোচনা করব। ট্রাম্পের ‘মনরো ডকট্রিন ২.০’ নামে পরিচিত নীতি এখানে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে, যা পশ্চিমা গোলার্ধে আমেরিকার আধিপত্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তৈরি। ভেনেজুয়েলার অভিযানটি শুধু একটি ঘটনা নয়, বরং একটি নতুন কৌশলের অংশ।

ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ২০২৫-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমেরিকা তার গোলার্ধে অ-আমেরিকান শক্তিগুলোর (যেমন- চীন, রাশিয়া, ইরান) প্রভাব কমাতে সক্ষমতা প্রয়োগ করবে। এই নীতির আলোকে বিশ্লেষকরা গ্রিনল্যান্ড, কিউবা, কলম্বিয়া, ইরান ও মেক্সিকোকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই দেশগুলোর সমৃদ্ধি মূলত প্রাকৃতিক সম্পদ, কৌশলগত অবস্থান এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় নিহিত, যা ট্রাম্পের জন্য আকর্ষণীয়। তবে এই হস্তক্ষেপের পেছনে রয়েছে নিরাপত্তা, মাদক চোরাচালান এবং খনিজ সম্পদের মতো কারণ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আজহারুল ইসলাম অভি

গ্রিনল্যান্ড

গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে এটি বিশ্বের ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির প্রতি আমেরিকার বিশেষ নজর গ্রিনল্যান্ডের গুরুত্বকে নতুন করে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে। বিরল খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই দ্বীপটি কৌশলগতভাবে উত্তর আটলান্টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প দাবি করেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ড দখল করা প্রয়োজন, কারণ সেখানে রুশ ও চীনা জাহাজের আনাগোনা বেড়ে গেছে। যদিও গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন ও ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন ট্রাম্পের এই ‘কল্পনা’ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন। তবু ট্রাম্পের অনড় অবস্থান ন্যাটোর ভেতরেই নতুন উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড (যা মহাদেশ নয়) ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিকভাবে অনন্য। যদিও এর প্রায় ৮০ শতাংশ এলাকা বরফের নিচে ঢাকা, তবু বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এটি একটি ‘গুপ্তধনের ভাণ্ডার’। এর সমৃদ্ধির প্রধান কারণগুলো হলো-

বিরল খনিজ সম্পদের ভাণ্ডার : গ্রিনল্যান্ডে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রেয়ার আর্থ এলিমেন্ট (REE) বা বিরল মৃত্তিকা ধাতুর মজুদ রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, যেমন- স্মার্টফোন, ইলেকট্রিক গাড়ি (EV), সেমিকন্ডাক্টর এবং প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের জন্য এই খনিজগুলো অপরিহার্য। বর্তমানে চীনের কাছে এই খনিজের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যা ভাঙতে গ্রিনল্যান্ডই পশ্চিমা বিশ্বের একমাত্র ভরসা।

বিপুল তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস : গ্রিনল্যান্ডের উপকূলীয় অঞ্চলে প্রায় ১৭.৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল এবং প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক গ্যাস সঞ্চিত আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বরফ গলতে শুরু করায় এই সম্পদগুলো আহরণ করা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে পড়েছে।

গ্রিন এনার্জি ও ইউরেনিয়াম : এখানে ইউরেনিয়াম ও জিংক আকরিক পাওয়া যায়। এ ছাড়া ভবিষ্যৎ জ্বালানি হিসেবে পরিচিত গ্রিন হাইড্রোজেনের জন্য পানি ও ভূ-তাপীয় শক্তির বড় উৎস এই দ্বীপটি।

ব্লু ইকোনমি বা মৎস্যসম্পদ : গ্রিনল্যান্ডের অর্থনীতির মূলভিত্তি হলো মাছ ধরা। এখানকার ঠাণ্ডা পানিতে প্রচুর পরিমাণে চিংড়ি এবং হ্যালিবুট মাছ পাওয়া যায়, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে তারা বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে।

গ্রিনল্যান্ডের সামরিক শক্তি ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা : গ্রিনল্যান্ড একটি স্বাধীন দেশ নয়, এটি ডেনমার্কের অধীনে একটি আধাস্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। ফলে গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব কোনো পূর্ণাঙ্গ সেনাবাহিনী নেই। এর নিরাপত্তা মূলত আন্তর্জাতিক চুক্তির ওপর নির্ভরশীল।

ডেনমার্কের ভূমিকা : গ্রিনল্যান্ডের বৈদেশিক নীতি ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ডেনমার্কের। ডেনিশ সেনাবাহিনী এখানে টহল দেয়। বিশেষ করে ‘সিরিয়াস প্যাট্রোল’ নামক একটি অভিজাত ইউনিট কুকুরের স্লেজ ব্যবহার করে গ্রিনল্যান্ডের দুর্গম বরফে ঢাকা উত্তর ও পূর্ব উপকূলে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালায়।

যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি : গ্রিনল্যান্ডের সবচেয়ে বড় সামরিক শক্তি হলো সেখানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি। আগে এর নাম ছিল থুলে এয়ার বেস বর্তমানে যার নাম পিটুফিক স্পেস বেস। ১৯৫১ সালের এক প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে আমেরিকা এই ঘাঁটিটি ব্যবহার করে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যা উত্তর মেরু দিয়ে আসা যেকোনো আক্রমণ শনাক্ত করতে পারে।

কৌশলগত অবস্থান : গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার ঠিক মাঝামাঝি অবস্থিত। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগর এবং আর্কটিক অঞ্চলের সমুদ্রপথ নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি একটি ‘প্রাকৃতিক বিমানবাহী রণতরী’ হিসেবে কাজ করে। এই ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই আমেরিকা এখানে সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে চায়।

ন্যাটোর সুরক্ষা : ডেনমার্ক ন্যাটোর সদস্য হওয়ায় গ্রিনল্যান্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে ন্যাটোর নিরাপত্তাবলয়ের অন্তর্ভুক্ত। ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো (যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি) সম্মিলিতভাবে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষার ঘোষণা দিয়েছে।

কলম্বিয়া

দক্ষিণ আমেরিকায় ট্রাম্পের পরবর্তী বড় লক্ষ্য হতে পারে কলম্বিয়া। ভেনেজুয়েলার অভিযানের পরপরই ট্রাম্প কলম্বিয়ার বামপন্থি প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোকে সতর্ক করে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবতে বলেছেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, পেত্রো একজন ‘অসুস্থ মানুষ’, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারে সহায়তা করছেন। কলম্বিয়ায় সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন, যা দীর্ঘদিনের মিত্র এই দুই দেশের মধ্যে চরম কূটনৈতিক বৈরিতার সৃষ্টি করেছে।

লাতিন আমেরিকার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত কলম্বিয়া বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম উদীয়মান শক্তি। ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং বিশাল প্রাকৃতিক সম্পদের কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দেশটির প্রতি আমেরিকার বিশেষ কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে।

খনিজ তেল ও কয়লা : কলম্বিয়ার অর্থনীতির মেরুদণ্ড হলো এর খনিজ সম্পদ। দেশটি লাতিন আমেরিকার অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী। এ ছাড়া উচ্চমানের বিটুমিনাস কয়লা উৎপাদনে কলম্বিয়া বিশ্বে চতুর্থ। ট্রাম্পের মতো নেতারা এই জ্বালানি সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ বা অংশীদারত্ব রাখতে সব সময়ই আগ্রহী থাকেন।

কফি ও কৃষিজ পণ্য : বিশ্বের সেরা স্বাদের কফি আসে কলম্বিয়া থেকে। এটি বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম কফি উৎপাদনকারী দেশ। এ ছাড়া দেশটি ফুল (বিশেষ করে গোলাপ) রপ্তানিতে বিশ্বে দ্বিতীয়। আমেরিকার বাজারে কলম্বিয়ার এই কৃষিজাত পণ্যের বিশাল চাহিদা রয়েছে।

স্বর্ণ : বিশ্বের প্রায় ৭০% থেকে ৯০% দামি পান্না কলম্বিয়া থেকে আসে। মাটির নিচে থাকা স্বর্ণের খনিগুলোও বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম আকর্ষণ।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জীববৈচিত্র্য : কলম্বিয়া বিশ্বের অন্যতম ‘মেগা-ডাইভার্স’ দেশ। এখানে আমাজন বনাঞ্চলের একাংশ রয়েছে। বর্তমানে দেশটি বায়ু ও সৌরবিদ্যুতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে, যা ভবিষ্যতের টেকসই অর্থনীতিতে দেশটিকে এগিয়ে রাখছে।

কলম্বিয়ার সামরিক শক্তি : দীর্ঘ কয়েক দশকের অভ্যন্তরীণ সংঘাত (ফার্ক বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই) এবং মাদক কার্টেল দমনে কলম্বিয়া তার সামরিক বাহিনীকে অত্যন্ত দক্ষ এবং আধুনিক করে তুলেছে।

লাতিন আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাহিনী : সক্রিয় সেনাসংখ্যার দিক থেকে কলম্বিয়া লাতিন আমেরিকায় ব্রাজিলের পরেই অবস্থান করে। তাদের ২,৯০,০০০-এর বেশি সক্রিয় সেনা সদস্য রয়েছে।

বিশেষায়িত যুদ্ধ অভিজ্ঞতা : কলম্বিয়ার সেনারা গেরিলা যুদ্ধ এবং জঙ্গলে লড়াই করার ক্ষেত্রে বিশ্বের অন্যতম সেরা। তাদের ‘ল্যানসেরোস’ নামক বিশেষ কমান্ডো ইউনিটকে বিশ্বের অন্যতম কঠিন সামরিক প্রশিক্ষণ কোর্স হিসেবে গণ্য করা হয়।

বিমান ও নৌবাহিনী : কলম্বিয়ার বিমানবাহিনী অত্যন্ত আধুনিক। তাদের হাতে ইসরায়েলে তৈরি ‘কফির’ ফাইটার জেট এবং ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টার রয়েছে। তাদের নৌবাহিনী ক্যারিবিয়ান সাগরে মাদক চোরাচালান রুখতে অত্যন্ত শক্তিশালী টহল জাহাজ এবং সাবমেরিন ব্যবহার করে।

মেক্সিকো

প্রতিবেশী দেশ মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে মাদক ও অভিবাসী প্রবাহ ঠেকাতে ট্রাম্প আরও কঠোর হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ক্ষমতায় ফিরেই তিনি ‘মেক্সিকো উপসাগর’-এর নাম পরিবর্তন করে ‘আমেরিকা উপসাগর’ রাখার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন এবং কার্টেল দমনে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা জাগিয়ে রেখেছেন।

ইরান

ভেনেজুয়েলা বা কলম্বিয়ার মতো ইরানও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দেশ। দেশটিতে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নেবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন করে হামলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটি কেবল তেলের দেশ নয়, বরং এটি একটি সুপ্রাচীন সভ্যতা এবং বিশাল সামরিক শক্তির আধার। যা রয়েছে –

খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার : ইরান সেই বিরল দেশগুলোর একটি যাদের কাছে তেল এবং গ্যাস- উভয়ই প্রচুর পরিমাণে রয়েছে।

প্রাকৃতিক গ্যাস : ইরান বর্তমানে বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদের অধিকারী (রাশিয়ার পরেই)। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত ‘সাউথ পার্স’ বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাস ফিল্ড, যা ইরান ও কাতার যৌথভাবে ভোগ করে।

খনিজ তেল : তেলের মজুদের দিক থেকে ইরান বিশ্বের চতুর্থ স্থানে রয়েছে। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন দেশটি প্রায় ৩৩-৩৫ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে।

খনিজ সম্পদের বৈচিত্র্য : কেবল তেল নয়, ইরানের মাটির নিচে রয়েছে আরও মূল্যবান অনেক কিছু।

তামা ও দস্তা : ইরানের ‘সারচেশমেহ’ তামার খনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উন্মুক্ত তামার খনি। এ ছাড়া এখানে উচ্চমানের দস্তা ও সিসা পাওয়া যায়।

ইউরেনিয়াম ও সোনা : ইরান গত কয়েক দশকে ইউরেনিয়াম এবং সোনার খনি উত্তোলনে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে, যা দেশটির জ্বালানি ও অর্থনীতির ভিত শক্ত করেছে।

শিক্ষার হার : ইরানের সমৃদ্ধির আরেকটি বড় কারণ তাদের শিক্ষিত জনসংখ্যা। অবরোধের কারণে তারা আত্মনির্ভরশীল হতে বাধ্য হয়েছে। তাদের দেশে নিজস্ব গাড়িশিল্প, ইস্পাতশিল্প এবং উন্নত চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি হয়।

ইরানের সামরিক শক্তি : ইরানের সামরিক শক্তি কেবল সংখ্যায় নয়, বরং তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি মারণাস্ত্রের জন্য বিশ্বজুড়ে আলোচিত। ২০২৬ সালের গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার ইনডেক্সে ইরান বিশ্বের শীর্ষ ১৪টি সামরিক শক্তির মধ্যে একটি।

দ্বিমুখী সামরিক ব্যবস্থা : ইরানের সামরিক বাহিনী দুটি অংশে বিভক্ত :

আরতেশ : এটি নিয়মিত সেনাবাহিনী, যারা দেশের সীমানা পাহারা দেয়।

আইআরজিসি : আইআরজিসি বা রেভল্যুশনারি গার্ডস। এটি ইরানের সবচেয়ে শক্তিশালী ও প্রভাবশালী শাখা। তারা সরাসরি আকাশপথ, নৌপথ এবং গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মিসাইল ভাণ্ডার : ইরানের আসল শক্তি হলো তাদের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ মিসাইল।

# মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কাছে সবচেয়ে বড় মিসাইলের ভাণ্ডার রয়েছে। তাদের ‘ফাতাহ-১’ এবং ‘ফাতাহ-২’ এর মতো হাইপারসনিক মিসাইল রয়েছে, যা শব্দের চেয়ে ১৩ গুণ দ্রুত ছুটতে পারে এবং বিশ্বের যেকোনো আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সক্ষম।

# তাদের মিসাইলের রেঞ্জ ২,০০০ থেকে ৩,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত, যা দিয়ে তারা সহজেই ইসরায়েল বা ইউরোপের একাংশ টার্গেট করতে পারে।

ড্রোনের নতুন শক্তি : ইরান বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ড্রোন উৎপাদনকারী। তাদের তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোনগুলো অত্যন্ত সস্তা কিন্তু নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদে সক্ষম। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধসহ বিভিন্ন সংঘাতময় এলাকায় এই ড্রোনগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়েছে।

নৌ ও ভৌগোলিক শক্তি (হরমুজ প্রণালি) : ইরানের নৌবাহিনী পারস্য উপসাগরে অত্যন্ত শক্তিশালী। তাদের কাছে শত শত স্পিডবোট এবং সাবমেরিন রয়েছে। ইরানের সবচেয়ে বড় কৌশলগত অস্ত্র হলো ‘হরমুজ প্রণালি’। বিশ্ববাজারের প্রায় ২৫% জ্বালানি তেল এই চিকন জলপথ দিয়ে যায়, যা ইরান চাইলে যেকোনো সময় বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ব অর্থনীতি স্তব্ধ করে দিতে পারে।

সেনাসংখ্যা ও সক্ষমতা : ইরানের সক্রিয় সেনাসংখ্যা প্রায় ৬ লাখ এবং তাদের রিজার্ভ বাহিনীতে আরও কয়েক লাখ সদস্য রয়েছে। এ ছাড়া তাদের নিজস্ব এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম (যেমন- বাভার-৩৭৩) যেকোনো আকাশপথের হামলা ঠেকাতে অত্যন্ত কার্যকর।

ট্রাম্প কেন ইরানকে টার্গেট করতে চান : ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তাদের আঞ্চলিক প্রভাব আমেরিকার জন্য বড় হুমকি। এ ছাড়া ইরানের বিশাল তেল ও গ্যাসসম্পদের ওপর আমেরিকান কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ডলারের একচেটিয়া আধিপত্য বজায় রাখাই তার মূল উদ্দেশ্য। ট্রাম্পের ভাষায় ইরান ‘সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী রাষ্ট্র’, যদিও বিশ্লেষকরা মনে করেন এর পেছনে রয়েছে মূলত ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থ।

কিউবা

সবশেষে ট্রাম্পের নজর রয়েছে কিউবার ওপর। ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল এই দ্বীপরাষ্ট্রটি বর্তমানে অর্থনৈতিকভাবে পতনের মুখে বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, মাদুরোর পতনের পর কিউবার কমিউনিস্ট সরকার এমনিতেই ভেঙে পড়বে, তাই সেখানে এখনই সামরিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কিউবার সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের কথাকে যেন তারা কোনোভাবেই হালকাভাবে না নেয়। লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলো এখন ট্রাম্পের এই ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে গভীর শঙ্কার মধ্যে রয়েছে।

You may also like

Leave a Comment