বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৩ লাখ টাকা আত্মসাত ও নির্যাতনের মামলায় জামিন পাওয়ার পর শর্ত ভঙ্গের দায়ে ফের কারাগারে পাঠানো হয়েছে আলোচিত কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলকে। জামিন পাওয়ার পর পুনরায় বাদীকে মারধর করার অভিযোগে আদালত তার জামিন বাতিল করেছেন।
এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি বাদীর সাথে আপসের শর্তে আদালত নোবেলকে জামিন দিয়েছিলেন। কিন্তু জামিন পাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই অভিযোগ ওঠে যে, নোবেল বাদী আনাননিয়া শবনম রোজ অনন্যাকে তার বাসায় নিয়ে গিয়ে ফের নির্যাতন করেছেন। এ বিষয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমের কাছে অনন্যা অভিযোগ করেন, নোবেল জামিন পাওয়ার জন্য হাত-পা ধরে কান্নাকাটি করলেও বেরিয়ে এসেই তার ওপর চড়াও হন। অনন্যার হাতে থাকা আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে তিনি দাবি করেন, মামলা করার অপরাধেই তাকে নির্যাতন করা হয়েছে।
বাদী অনন্যার মা বিবি কুলসুম জানান, জামিনের সময় মিষ্টি কথায় আপসের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে নোবেল তার আচরণ বদলে ফেলেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি আবারও নির্যাতনের শিকার হওয়ার প্রমাণসহ ভিডিও চিত্র তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে বলে জানান তিনি। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী জামিন বাতিলের আবেদন জানান।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট অনন্যা বাদী হয়ে নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট থেকে গত বছরের জুন মাস পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নোবেল তার কাছ থেকে ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও বাদীকে আটকে রেখে হেনস্তা ও আপত্তিকর ছবি তৈরির চেষ্টারও অভিযোগ রয়েছে।
পিবিআই-এর তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জ থেকে ডেমরা থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল।
কণ্ঠশিল্পী নোবেলের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম মামলা নয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১৯ মে ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে ডেমরা থানায় দায়ের করা অন্য একটি মামলায়ও তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেই মামলায় বাদীকে বিয়ের শর্তে জামিন পেয়েছিলেন নোবেল। এবার নতুন মামলায় জামিনের শর্ত ভঙ্গ করায় পুনরায় আইনের মুখোমুখি হতে হলো তাকে।
