দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র আপিলের পরও নামঞ্জুর করা হয়েছে। এর ফলে রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া বাতিলের সিদ্ধান্তই বহাল রইলো এবং আপাতত তার নির্বাচনে লড়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানির তৃতীয় দিনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন এই সিদ্ধান্ত জানান।
শুনানি শেষে ডা. একেএম ফজলুল হক গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি বৈষম্যের শিকার হয়েছি। বিএনপির অনেক প্রার্থী দ্বৈত নাগরিকত্বের চূড়ান্ত কাগজ জমা না দিলেও তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ করা হয়েছে। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে কঠোরতা দেখানো হয়েছে। আমি আমার আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ডা. একেএম ফজলুল হকের বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্ব (যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব) থাকার অভিযোগ ছিল। রিটার্নিং কর্মকর্তা এই যুক্তিতেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন। ইসির শুনানিতে ফজলুল হক দাবি করেন যে তিনি বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের আবেদন করেছেন। তবে নাগরিকত্ব ছাড়ার চূড়ান্ত ও প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ দাখিল করতে ব্যর্থ হওয়ায় কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তই বহাল রাখে।
উল্লেখ্য, গত ১০ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই আপিল শুনানি চলবে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন ৭০টি করে আবেদনের শুনানি করছে কমিশন। সোমবার শুনানির তৃতীয় দিনে ১৪১ থেকে ২১০ নম্বর ক্রমিকের আপিলগুলো নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।
