চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি (জিডিপি) ৪ দশমিক ৬ শতাংশ হবেÑ এমন পূর্বাভাস দিয়েছে বহুজাতিক উন্নয়ন সংস্থা বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি বলছে, পরের অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশ হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস জানুয়ারি সংস্করণে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বব্যাংক।
জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বিশ্বব্যাংক বলছে, মানুষের ভোগ ব্যয় বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের শুরুতে জাতীয় নির্বাচন হলে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমবে। এর পাশাপাশি নতুন সরকার এসে কাঠামোগত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করবে। এতে শিল্প খাতকে শক্তিশালী করবে। এসব প্রত্যাশা করে বিশ্বব্যাংক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়েছে।
বিশ্বব্যাংক মনে করে, এসব কারণে সরকারি খরচ বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগও বাড়বে। বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশে এখন লক্ষ্যের চেয়ে মূল্যস্ফীতি বেশি আছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর করা হয়েছে। বাংলাদেশে ঋণের প্রবাহ কমেছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে বাধা সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুসারে, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি হবে ভুটানে। দেশটিতে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। এর পরের স্থানে আছে ভারত। চলতি অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি হতে পারে সাড়ে ছয় শতাংশ। এ ছাড়া শ্রীলংকায় সাড়ে ৩ শতাংশ, নেপালে ২ দশমিক ১ শতাংশ, মালদ্বীপে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হতে পারে। প্রতিবেদনে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়নি বিশ্বব্যাংক।
এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক, অর্থাৎ গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব দিয়েছে। বিবিএসের হিসাব অনুসারে, চলতি অর্থবছরে প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে সাড়ে ৪ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
প্রথম প্রান্তিকে জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৪.৫০ শতাংশ
কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের মাঝারি পারফরম্যান্সের কারণে চলতি অর্থবছরের (২৬ অর্থবছরের) প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের অর্থনীতির (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৫০ শতাংশ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, গত অর্থবছরের (২৫ অর্থবছরের) প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ, যা কৃষি, শিল্প ও সেবা খাতের মাঝারি পারফরম্যান্সের কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৬ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়কালে শিল্প উৎপাদন ৬ দশমিক ৯৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের ৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ ছিল। অর্থনীতির অর্ধেকেরও বেশি অবদান রাখা পরিষেবা খাত, অর্থবছর ২০২৬-এর প্রথম প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগের বছরের একই প্রান্তিকে ছিল ২ দশমিক ৯৬ শতাংশ।
তবে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি ধীরগতিতে দেখা গেছে। কারণ অর্থবছর ২০২৬-এর জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়কালে এটি ২ দশমিক ৩০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় বেশি।
