Home আন্তর্জাতিকগ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সিদ্ধান্ত বদলালেন ট্রাম্প

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সিদ্ধান্ত বদলালেন ট্রাম্প

by The Desh Bangla
০ comments

গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের সম্ভাব্য পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি সমঝোতামূলক কাঠামো তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিবিসির খবরে তথ্য জানানো হয়,সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প এ অবস্থানের কথা জানান।

এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইউরোপের আটটি মিত্র দেশ তার পরিকল্পনার বিরোধিতা করলে তাদের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক চমকপ্রদ ঘোষণায় তিনি জানান, এই শুল্ক হুমকি আর কার্যকর থাকছে না এবং সাম্প্রতিক সব শুল্ক-সংক্রান্ত হুমকি প্রত্যাহার করা হয়েছে।

একই সঙ্গে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ভবিষ্যৎ চুক্তির একটি কাঠামো ঘোষণা করেন। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে খুবই ফলপ্রসূ বৈঠকের পর এই অগ্রগতির কথা জানান তিনি। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে তাৎক্ষণিকভাবে বড় উত্থান দেখা যায়, যা ইউরোপীয় মিত্রদের জন্যও কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘প্রস্তাবিত সমঝোতাটি এমন হবে, যাতে সংশ্লিষ্ট সবাই লাভবান হবে। নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনায় এটি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল অবস্থানে রাখবে।’

ন্যাটোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অব্যাহত থাকবে। আলোচনার মূল লক্ষ্য থাকবে—গ্রিনল্যান্ডে রাশিয়া বা চীনের কোনো ধরনের অর্থনৈতিক কিংবা সামরিক উপস্থিতি রোধ করা। যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট সময়সূচি বা স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। 

তবে, ট্রাম্প জানিয়েছেন, এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোক্কে রাসমুসেন এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘ডেনমার্কের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার। এ ধরনের সংবেদনশীল ইস্যু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নয়, বরং নীরব ও দায়িত্বশীল কূটনীতির মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত।’

অপরদিকে দাভোসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো অবস্থাতেই সামরিক শক্তি প্রয়োগ করবে না। অনেকেই ভেবেছিল শক্তি ব্যবহারের পথে হাঁটা হবে, কিন্তু তিনি সে পথ বেছে নিতে চান না।

তবে এই ঘোষণার পরও গ্রিনল্যান্ডে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ঠিক কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে মিত্র দেশগুলো এখনও অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিবিসির ওয়াশিংটন প্রতিনিধি।

You may also like

Leave a Comment