Home আন্তর্জাতিককার্যালয়ে ইডির তল্লাশি, অমিত শাহকে হুঁশিয়ারি মমতার

কার্যালয়ে ইডির তল্লাশি, অমিত শাহকে হুঁশিয়ারি মমতার

by Akash
০ comments

বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের দপ্তরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) তল্লাশিকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় নাটকীয় পরিস্থিতি। ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বাংলার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, কয়লা পাচার মামলায় ইডি যখন আই-প্যাকের অফিস ও সংস্থার প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাচ্ছিল, ঠিক সেই সময়ই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় সংস্থার এই অভিযানের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাসভবন এবং সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আই-প্যাকের অফিসে তল্লাশি শুরু করে ইডি। দুপুর ১২টা নাগাদ তল্লাশি চলাকালীন হঠাৎ প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। তার কিছুক্ষণ আগেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, হাতে একটি সবুজ ফাইল ও ল্যাপটপ নিয়ে।

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ‘ইডি দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি, হার্ডডিস্ক, ফোন ও প্রার্থী তালিকা বাজেয়াপ্ত করার চেষ্টা করছে’। মমতা বলেন, ‘ওরা আমার দলের সমস্ত নথি নিয়ে যাচ্ছিল। আমি সেগুলো ফিরিয়ে এনেছি।’

এই প্রসঙ্গে তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, ‘ইডির কাজ কি দলীয় হার্ডডিস্ক আর প্রার্থী তালিকা সংগ্রহ করা? যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশ চালাতে পারেন না, তিনিই আমার দলের নথি বাজেয়াপ্ত করছেন।’

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, ‘আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে তৃণমূল কংগ্রেসকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।’ তার অভিযোগ, একদিকে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে এই ধরনের অভিযানের মাধ্যমে দলের রাজনৈতিক পরিকল্পনা “হাইজ্যাক” করার চেষ্টা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি যদি বিজেপির অফিস বা আইটি সেলে অভিযান চালাই, তাহলে কি তারা চুপ করে থাকবে? বাংলা জিততে চাইলে রাজনৈতিকভাবে লড়ুন।’

ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির একটি আর্থিক জালিয়াতি এবং কয়লা পাচার সংক্রান্ত পুরনো মামলার সূত্র ধরে এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে। পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চলে।

প্রায় এক ঘণ্টা পর আই-প্যাকের অফিস থেকে বেরিয়ে এসে বেরিয়ে এসে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, ‘বাংলা জিততে চাইলে রাজনৈতিক ভাবে লড়াই করুন। আমি যদি বিজেপির অফিসে হানা দিই। তাহলে ওরা কী চুপ করে বসে থাকবে? ইডিকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী কৌশল হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক তথ্য নিয়ে গেছে।’ এই ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিটি ব্লকে ব্লকে জেলায় জেলায় প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘মানি পাওয়ার, মাসল পাওয়ার ব্যাবহার করে গায়ের জোরে সব কিছু দখল করার চেষ্টা করছে। আমরা রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দল, ইনকাম ট্যাক্স দিই। এখনও সহ্য করছি। প্রতীকের বাড়িতে যা করেছে আই প্যাকের অফিসেও তাই করেছে। তথ্য লুঠ, ভোটার লুঠ, বাংলাকেও লুঠ করার চেষ্টা করছে বিজেপি। সৌজন্য দেখাবো, সব সহ্য করব, তবে সেটা আমার দুর্বলতা নয়। আমার দলের তথ্য, ভোটের স্ট্র্যাটেজি সব ট্র্যান্সফার করা হয়েছে।’

মমতা বলেন, ‘এভাবে একটি রাজনৈতিক দলের পার্টি অফিসে ঢুকে তল্লাশি চালানো সম্পূর্ণ অন্যায় ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। বাংলা জিততে হলে রাজনৈতিক লড়াই রাজনৈতিক ময়দানেই করা উচিত, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করে নয়। এ ধরনের পদক্ষেপ কার্যত গণতন্ত্রকে হত্যা করার সামিল।’

এর আগেও ২০১৯ সালে সিবিআই তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাড়িতে অভিযান চালালে সেখানে হাজির হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরে ধর্মতলায় অবস্থান বিক্ষোভে বসেন। আই-প্যাক ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযানের ঘটনাকে ঘিরে এবারও কেন্দ্র ও রাজ্যের সংঘাত প্রকাশ্যে এল, যা বিধানসভা ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়িয়ে তুলল।

You may also like

Leave a Comment