চলমান এলপিজি সরবরাহ সংকট কাটাতে সরকার ও এলপিজি খাতের স্টেকহোল্ডাররা কয়েকটি সাময়িক পদক্ষেপ গ্রহণে একমত হয়েছেন। এতে রয়েছে আমদানি ব্যয় ও প্রক্রিয়ায় ভ্যাট অব্যাহতি, ব্যাংকের সুদহার কমানো এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার প্রক্রিয়া সহজ করা। এই সিদ্ধান্ত ৪ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত বৈঠকে নেওয়া হয়।
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, স্থানীয় বটলিং পর্যায়ে সাময়িকভাবে ভ্যাট কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) অনুরোধ করা হবে এবং ব্যাংকগুলোকে এলপিজি ঋণের সুদহার ‘গ্রিন ফাইন্যান্সিং’-এর মতো এক অঙ্কের ঘরে নামানোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে সুপারিশ করা হবে। জ্বালানি সচিব প্রস্তাবগুলো কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠাবেন।
সরকার বাজারে কৃত্রিম সংকট ও খুচরা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি প্রতিরোধে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদারকি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী জানান, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, কোম্পানিগুলো বাড়তি দামে বিক্রি করেনি, সমস্যা মূলত খুচরা পর্যায়ে।
এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) সভাপতি আমিরুল হক বলেন, বিশ্ববাজারে এলপিজি অস্থির থাকায় বাংলাদেশ নতুন উৎস থেকে আমদানির চেষ্টা করছে, এমনকি আর্জেন্টিনার মতো দেশে থেকেও। তারা সরকারের কাছে কোটা বা অনুমতিনির্ভর সীমাবদ্ধতা তুলে মুক্তবাজার নীতির আওতায় আমদানির সুযোগ চেয়েছে। সরকার ইতিমধ্যে এলপিজি আমদানি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
লোয়াবের সহসভাপতি হুমায়ুন রশীদ বলেন, বাংলাদেশি অপারেটরদের জন্য সুদহার ১৫ শতাংশের বেশি, যা কমিয়ে এক অঙ্কের ঘরে আনা হলে খুচরা দামের ওপর প্রভাব পড়বে। এছাড়া দেশের কিছু অংশে পাইপলাইনের গ্যাস সস্তায় পাওয়া গেলেও অন্য এলাকায় এলপিজি ব্যয় বেশি, যা দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
সভায় অংশ নেওয়া অন্যান্য কোম্পানিগুলোও এলসি সহজীকরণ ও অগ্রাধিকার প্রদানের প্রস্তাব দেন। বর্তমান সংকটের পেছনে আমদানির কম পরিমাণ, শীতকালে চাহিদা বৃদ্ধি এবং খুচরা বাজারে কিছু ব্যবসায়ীর অতিরিক্ত দাম স্থাপন মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
লোয়াব বলেছে, বাজারে কিছু খুচরা বিক্রেতা সরকারি দরের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করছে, যা জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, এসব খুচরা বিক্রেতার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং ন্যায্যমূল্যে এলপিজি বিক্রি নিশ্চিত করতে বাজার তদারকি জোরদার করা হোক।
