Home আন্তর্জাতিকএপস্টিন কেলেঙ্কারির দীর্ঘ ছায়া: বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন প্রিন্সেস ইউজেনি

এপস্টিন কেলেঙ্কারির দীর্ঘ ছায়া: বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করলেন প্রিন্সেস ইউজেনি

by Akash
০ comments

ব্রিটিশ রাজপরিবারকে ঘিরে জেফ্রি এপস্টিন কেলেঙ্কারির প্রভাব ক্রমেই গভীর হচ্ছে। সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কে জড়ানো সাবেক রাজকুমার অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ ছিন্ন করেছেন তার কন্যা প্রিন্সেস ইউজেনি। বিষয়টি শুধু একটি পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার ঘটনা নয়, বরং রাজপরিবারের ভেতরে নৈতিক অবস্থান, দায়বদ্ধতা এবং ভাবমূর্তি রক্ষার জটিল বাস্তবতার প্রতিফলন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

৩৫ বছর বয়সী প্রিন্সেস ইউজেনি মানবপাচার ও যৌন শোষণের বিরুদ্ধে কাজ করা সংগঠন ‘দ্য অ্যান্টি-স্লেভারি কালেকটিভ’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। এমন একটি সামাজিক অবস্থান থেকে তার বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং বিশেষ করে এপস্টিনের ভুক্তভোগীদের কাছে ক্ষমা না চাওয়ার সিদ্ধান্ত তাকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে বলে পারিবারিক সূত্রগুলোর দাবি। এই প্রেক্ষাপটে ইউজেনির অবস্থানকে ব্যক্তিগত আবেগের চেয়েও নৈতিক প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

খবরে বলা হচ্ছে, ইউজেনি শুধু বাবার সঙ্গে কথা বলা বন্ধই করেননি, বরং গত বড়দিনেও তাকে দেখতে যাননি। সে সময় তিনি রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে স্যান্ড্রিংহামে ছিলেন। বিপরীতে, প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে রাজপরিবারের কাছাকাছি না থাকতে লন্ডনে অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হয়। পারিবারিক ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, বাবা ও মেয়ের মধ্যে বর্তমানে কোনো ধরনের যোগাযোগ নেই।

অন্যদিকে, বড় বোন প্রিন্সেস বিয়াট্রিস তুলনামূলক ভিন্ন কৌশল নিয়েছেন। তিনি একদিকে রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে পুরোপুরি বাবার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেননি। সম্প্রতি নিজের কন্যার খ্রিস্টান নামকরণ অনুষ্ঠানে তিনি অ্যান্ড্রুকে আমন্ত্রণ জানালেও, অনুষ্ঠান-পরবর্তী সামাজিক আয়োজনে সাবেক রাজকুমার উপস্থিত ছিলেন না। এতে স্পষ্ট হয়, বিট্রিসও সীমিত ও সতর্ক দূরত্ব বজায় রেখে এগোচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দুই বোনের ভিন্ন অবস্থান রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের প্রতিচ্ছবি। ইউজেনির সিদ্ধান্ত যেখানে নৈতিক স্পষ্টতার বার্তা দেয়, সেখানে বিট্রিসের অবস্থান বাস্তবতা ও পারিবারিক দায়বদ্ধতার মধ্যকার সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা।

এই পারিবারিক সংকটের মধ্যেই প্রিন্স অ্যান্ড্রুর ব্যক্তিগত অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। অক্টোবর মাসে রাজকীয় উপাধি হারানোর পর তিনি উইন্ডসর এস্টেটে অবস্থিত দীর্ঘদিনের বাসভবন রয়্যাল লজ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন। চলতি মাসের মধ্যেই তাকে সেখান থেকে সরে যেতে হবে এবং আপাতত নরফোকের স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের একটি ছোট বাসভবনে উঠবেন বলে জানা গেছে।

এপস্টিন সংক্রান্ত নথি প্রকাশের পর সম্প্রতি নতুন করে অ্যান্ড্রুর একাধিক ছবি সামনে এসেছে, যা বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। যদিও তিনি বরাবরের মতোই সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন, তবু জনমত ও পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা তার অবস্থানকে ক্রমেই একঘরে করে তুলছে।

সব মিলিয়ে, প্রিন্সেস ইউজেনির সিদ্ধান্ত শুধু একজন কন্যার ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়; এটি আধুনিক রাজপরিবারে নৈতিক দায়, সামাজিক মূল্যবোধ এবং জনসমালোচনার চাপ কীভাবে ব্যক্তিগত সম্পর্ককেও ভেঙে দিতে পারে—তার একটি শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

You may also like

Leave a Comment