খুলনা-১ আসনে (দাকোপ-বটিয়াঘাটা) নির্বাচনী লড়াইয়ে মাঠে আছেন ১০ প্রার্থী। এসব প্রার্থীর হলফনামা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বার্ষিক আয়ে এগিয়ে বিএনপির প্রার্থী আমীর এজাজ খান। আর সম্পদে এগিয়ে জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী।
আমীর এজাজ খানের অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা। আর ব্যবসা, কৃষিখাত, এফডিআর ও মুলধনী লাভ থেকে তার বার্ষিক আয় ১ কোটি ৩০ লাখ ৯ হাজার টাকা।
আমীর এজাজ খান হলফনামায় পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। তিনি বিএ পাস। তার মামলার সংখ্যা ১৩টি। যার মধ্যে কয়েকটি মামলায় খালাস ও প্রত্যাহার হয়েছে, কিছু মামলা চলামান রয়েছে। ব্যবসাসহ বিভিন্ন খাতে তার বার্ষিক আয় ১ কোটি ৩০ লাখ ৯ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ ৩৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪১৬ টাকা, ব্যাংকে জমা ২৪ লাখ ৮২ হাজার ২১৪ টাকা, এফডিআর ৮৫ লাখ টাকা, বাস, ট্রাক, মোটরযান ও মোটরসাইকেলের মূল্য ৪০ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ৩০ ভরি সোনা, ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক পণ্য, ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। এ ছাড়া তার কৃষি জমি, অকৃষি জমি, ৮টি দোকান বাবদ ৬০ লাখ টাকার মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে। গরুর খামারে ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ৪৭ লাখ ৪৯ হাজার ৮৫১ টাকা। তার স্ত্রীর ২০ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। সবশেষ বছরের আয়কর ১ লাখ ৫৭ হাজার ২০১ টাকা প্রদান করেছেন বিএনপির এই প্রার্থী।
জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী নানা কারণে আলোচিত। হিন্দু সম্প্রদায়ের হয়ে তিনি জামায়াত থেকে নির্বাচন করছেন। তা ছাড়া পাশের ৫ আসনের বাসিন্দা হয়েও তিনি ১ আসনে নির্বাচন করায় ইতোমধ্যেই আলোচিত-সমালোচিত হয়েছেন।
কৃষ্ণ নন্দীর হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছেÑ অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে ২০ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ৯২৪ টাকার। যার মধ্যে নগদ অর্থ ঋণসহ ১৮ কোটি ৫৩ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৪ টাকা এবং ব্যবসা ও কৃষিখাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা করে আরও দেখা যায়, জামায়াতের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী এসএসসি পাস। তিনি পেশা হিসেবে ব্যবসায়ী উল্লেখ করেছেন। তার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ১৯ কোটি ২ লাখ ৩৯ হাজার ৯৮৪ টাকার এবং স্থাবর সম্পদ এক কোটি ৬৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার। তিনি সবশেষ বছরে ৩০ হাজার ৮০০ টাকার আয়কর প্রদান দাখিল করেছেন।
শুধু এই দুজনই নয়, খুলনা-১ আসনের আরও ৮ প্রার্থী হলফনামা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির কিশোর কুমার রায় স্নাতক পাস। পেশা হিসেবে তিনি কৃষি উল্লেখ করেছেন। তার বার্ষিক আয় ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকা। এ ছাড়া ১২ লাখ টাকার অস্থাবর এবং ৩৩ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। স্ত্রীর ১৮ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে।
জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর হোসেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরি উল্লেখ করেছেন। পেশায় রাজনীতি। তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এক কোটি ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ তার। স্থাবর সম্পদের ঘরেও তিনি এক কোটি ৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।
ইসলামী আন্দোলনের মো. আবু সাঈদ হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘর ফাকা রেখেছেন। তার পেশা চাকরি। বার্ষিক আয় এক লাখ ৯০ হাজার টাকা, ৩৫ হাজার টাকা বর্তমান মূল্যের অস্থাবর সম্পদ এবং ২০ লাখ টাকার বর্তমান মূল্যের স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের ফিরোজুল ইসলাম বিএ পাস। পেশার ঘরে তিনি কৃষি উল্লেখ করেছেন। কৃষি থেকে তার বার্ষিক আয় ৪ লাখ টাকা। তার অস্থাবর সম্পদ ২৬ লাখ ৫০ হাজার এবং স্ত্রীর ১০ লাখ টাকার। এ ছাড়া স্থাবর কোনো সম্পদ নেই তার। জেএসডির প্রসেনজিৎ দত্তের শিক্ষাগত যোগ্যতা এলএলবি এবং পেশা ব্যবসা। ব্যবসা ও কৃষিখাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৪১ লাখ ২৫ হাজার টাকার অস্থাবর এবং ২ কোটি ১০ লাখ ৩৫ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার।
বাংলাদেশ মাইনোরিটি জাতীয় পার্টির প্রার্থী প্রবীর গোপাল রায় এমবিএ পাস। পেশায় ব্যবসা। তার বার্ষিক আয় ১৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৩ টাকা। এ ছাড়া ৪৬ লাখ ৫ হাজার ৪২৩ টাকার অস্থাবর এবং ৬৮ লাখ ৮৯ হাজার ৯০ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। স্ত্রীর ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সম্মিলিত জাতীয় জোটের অন্তর্গত বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সুনীল শুভ রায় এমএ পাস। বার্ষিক আয় ৭ লাখ ১ হাজার ৮৬৯ টাকা। এ ছাড়া অস্থাবর সম্পদের ঘরেও তিনি ৭ লাখ ১ হাজার ৮৬৯ টাকা উল্লেখ করেছেন। আর ৭১ লাখ ৮৭ হাজার ১১৫ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার। তার স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৪ লাখ ৭৫ হাজার ৫৬৬ টাকা।
বাংলাদেশ সমঅধিকার পরিষদের সুব্রত মন্ডল এইচএসসি পাস। তার পেশা ব্যবসা। বার্ষিক আয় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৫০ লাখ ৬২ হাজার ৬৮১ টাকার অস্থাবর এবং ৫০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে তার।
