Home রাজনীতিআওয়ামী লীগ নেতা এখন জামায়াতের ওয়ার্ড সভাপতি

আওয়ামী লীগ নেতা এখন জামায়াতের ওয়ার্ড সভাপতি

by Akash
০ comments

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুল ইসলামের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পদ-পদবী গোপন রেখে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের দাবি, শেখ হাসিনা সরকারের সময় আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুল ইসলাম তৎকালীন আইনমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সেসময় তিনি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সভা-সমাবেশ, মিছিল ও দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং নিজেকে আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি গত ২০১৯ সালের ১০ মার্চে সর্বশেষ অনুমোদিত খাড়েরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির ৩৭ নম্বর সদস্য হিসেবে আছেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাকে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তিনি বর্তমানে খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বলেও এলাকায় আলোচনা রয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের অভিযোগ, অতীতের কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন বিতর্ক এড়াতেই তিনি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করেছেন। এতে ইউনিয়নজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

খাড়েরা ইউনিয়ন বিএনপির শ্রমিক দলের সভাপতি নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘হাসিনা সরকারের সময় তিনি আওয়ামী লীগের ছত্রছায়া থেকে নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। এখন রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে নিজের কুকর্ম আড়াল করতে জামায়াতে ইসলামের রাজনীতিতে আশ্রয় নিয়েছেন। জনগণ এসব ভালো করেই বুঝে।’

খাড়েরা ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্যসচিব বাবুল মিয়া বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন জনপ্রতিনিধির এভাবে বারবার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন দুঃখজনক। রাজনীতি আদর্শের জায়গা হলেও এখানে আমরা আদর্শ নয়, ব্যক্তিস্বার্থের প্রতিফলন দেখতে পাচ্ছি।’

এ বিষয়ে খাড়েরা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘মিজানুল ইসলাম গত এক বছর ধরে খাড়েরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন—এ বিষয়ে আমার জানা ছিল না।’

অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সদস্য (মেম্বার) মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আগে মেম্বার ছিলাম, এখনো আছি। সে হিসেবে হয়তো আমাকে আওয়ামী লীগের কোনো কমিটিতে নাম দিয়ে রাখা হয়েছে। কে কখন নাম বসিয়েছে, সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সাধারণত যখন যে সরকার থাকে, তার সঙ্গেই থাকতে হয়।’

কসবা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির পীরজাদা শিবলী নোমানী বলেন, ‘মিজান মেম্বার যে আওয়ামী লীগের সদস্য ছিলেন—এ বিষয়ে আমরা অবগত ছিলাম না। আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

You may also like

Leave a Comment